ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকার স্থায়ী কার্যালয় জন্য জমি দিলো আপন দুই ভাই

মোঃ নাজমুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় সেচ্ছায় রক্তদানে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে সংগঠনের প্রতিষ্ঠিতা কুয়েত প্রবাসী (শেখ আবীর হুোসাইন) কিছু দিন পূর্বে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি আংশিক কমিটি গঠন করেন।

সেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা উক্ত কমিটিতে কন্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত করেন সাবেক ছাত্রনেতা, ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম ফিরোজ আহম্মেদকে। সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ টুটুল।

সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ নাজমুল ইসলাম কে। সেচ্ছায় রক্তদানে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকা বর্তমানে জনপ্রিয়তা শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে।

সংগঠনের সভাপতি এস এস ফিরোজ আহম্মেদ  জানান, আমি এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছোট ভাই শেখ আবির মিলে আমাদের বাবার পৈতৃক জমি থেকে ভালুকা পৌরসভার মধ্য বাজার এলাকাতে ২ শতাংশ জমি সংগঠনের স্থায়ী কার্যলয় করার জন্য যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি সংগঠনের নামে স্থায়ীভাবে সেচ্ছায় লিখে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছি এবং সেটা দুই একদিনের মধ্যে ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকার নামে রেজিষ্টি করে দিবো বলে আমরা সহৃদর দুই ভাই সিদ্ধাত নিয়েছি।

কারন ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকার সেচ্ছাসেবী ভাই-বোনদের সারা জীবনের একটা অফিস দরকার ছিলো যার জন্য জায়গা ভাড়া নিতে চেয়েছিলাম বাজার রোডে কিন্তু সিকুরিটি বাবদ কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম সহ প্রতিমাসে অফিসের ভাড়া ৫ হাজার টাকাসহ সব খরচ সংগঠনের পক্ষে কোন পন্সর না থাকায় সেচ্ছাসেবী ভাই-বোনেরা এটা দেয়া অসম্ভব প্রায়!

সেই দিক চিন্তা করে আমি এস এম ফিরোজ আহম্মেদ ও আমার ছোট ভাই বাবার দেয়া পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে মধ্যবাজারে দুই শতাংশ জায়গা সংগঠনের অফিস করার জন্য লিখে দিতে সম্মত হই! যাতে শুধুমাএ একটা অফিস ঘর করে নিলে যা সীমিত খরচ সেটাই হবে। মাসিক কোন ভাড়া নেই, নেই কোন জামানত বাবদ টাকার জামেলা! ভবিতব্য প্রজন্মের জন্য আমরা দুই ভাই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যকম আরও বেগবান করতে অসহায় মানুষের বিপদে সেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে তরুন প্রজন্মকে উদ্ভোদ্য করতে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবীর হোসাইন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংগঠনের সভাপতি আমার সুহুদর ভাই আমরা দুই ভাই মিলে সিন্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনের কার্যলয় স্থাপন করতে আমাদের বাবার রেখে যাওয়া পৈতৃক জমি থেকে ২ শতক বা শতাংশ জমি সংঠনের অফিসের জন্য দিব যাতে করে আমাদের রক্তযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবী ভাইবোনেরা এক সাথে বসতে পারে!

ভালুকাতে স্বেচ্ছাসেবীদের বসার কোনো স্থান নেই তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন হোটেল কিংবা রেস্তুরায় বসতে হয়! অনেক স্বেচ্ছাসেবী ভাইবোনেরা দূর থেকে আসে তাই অনেকেই হোটেল বা রেস্তরাতে বসতে পছন্দ করেনা! তাই সবার সুবিধার কথা চিন্ত করে আমরা দুই ভাই এবং আমাদের পরিবারে সবার সাথে আলোচনা করে এই সিদ্ধন্ত নিয়েছি।

অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে এস এম ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমাদের কাজ শুধু রক্তদান করা নয় ভালুকা উপজেলার প্রতিটি ঘর থেকে কম পক্ষে একজন করে রক্তদাতা তৈরি করা। ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি সংগঠনের মূলনীতি স্বেচ্ছায় মানুষকে রক্তদান।

এই সময় তিনি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উলেক্ষ্যযোগ্য চলমান কর্মকান্ড তুলে ধরেন। যার মধ্যে এই সংগঠন থেকে এই কয়েক মাসে ২৬৫ রক্ত ম্যানেজ করে দিয়েছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীকে মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয় কে উপেক্ষা রক্তদান কর্মসূচি চলমান রেখেছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করার পর থেকে শ্রমজীবি মানুষের মাঝে তিন হাজার মাক্স বিনামূল্যে বিতরণ করেছে ভালুকা পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে সাথে মিডিয়া পার্টনার ছিল জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ ভালুকা ডট কম ও ত্রিশাল প্রতিদিন অনলাইন নিউজ।

এছাড়া মাহে রমজান মাসে ভালুকায় লক-ডাউনে থাকা আড়াই শতাধিক শ্রমজীবি,হতদরিদ্র দিনমজুর, বিধবা, অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরী খাদ্য সহায়তা করেছে সংগঠনের তহবিল থেকে এবং ভালুকা উপজেলা প্রসাশন কর্তৃক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটিতে সেচ্ছাসেবী টিমে যুক্ত হয়ে ভালুকা উপজেলা প্রশাসন কে সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করে আসছে অত্যান্ত সুনামের সহিত।

সেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি পরিবারের সভাপতি যিনি মানুষের রক্তের প্রয়োজনে নিজের সব কিছুই ত্যাগ করে ব্লাড মেনেজ করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত যার ধরুন সেচ্ছাসেবী ও সাধারন মানুষের কাছে একটি উজ্জল দৃষ্টাত হয়ে উঠেছেন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবীর হোসাইন ও সংগঠনের সভাপতি এস এম ফিরোজ আহম্মেদ ভালুকা বাসীর সার্বিক সহযোগীতা ও দোয়া চেয়েছেন এবং আমৃত অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চান একজন সেচ্ছাসেবী হয়েই।