দেশের বাজারে টানা ৩ দফায় কমলো সোনার ও রুপার দাম: জানুন ভরিপ্রতি নতুন দর

ঢাকা: স্থানীয় বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সোনা ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন এই দর ঘোষণার দিন থেকেই সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সোনার নতুন দর ঘোষণা করে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টা থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে।

সোনা ও রুপার নতুন মূল্য তালিকা

বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনা ও রুপার বর্তমান দাম নিচে তুলে ধরা হলো:

সোনা (প্রতি ভরি / ১১.৬৬৪ গ্রাম)

  • ২২ ক্যারেট: বর্তমানে প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা (ভ্যাটসহ)। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এই ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা।
  • ২১ ক্যারেট: নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।
  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির নতুন দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা।
  • সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়।

রুপা (প্রতি ভরি / ১১.৬৬৪ গ্রাম)

সোনার দরপতনের পাশাপাশি কমেছে রূপার দামও। ক্যাটাগরি অনুযায়ী নতুন দর নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।
  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা।
  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।
  • সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৩৯১ টাকা।

বাজার পরিস্থিতি ও ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

টানা তিন দফায় সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সামনে যাদের বিয়ের কেনাকাটা কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠান রয়েছে, তাদের জন্য বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের সুযোগ নিয়ে এসেছে।

সোনার দর সমন্বয়ের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় মার্কেটে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দর কমার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাজুস নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সোনার নতুন দর নির্ধারণ করে থাকে।