
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আম আদমি উন্নয়ন পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটগ্রহণের দিন প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাতে থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় রেজিনগরের ভোটারদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তিনি এবং অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার না করে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন।
উপনির্বাচনে কারচুপি ও ১২ ঘণ্টার বন্দিদশা
রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে নিজ দল আম আদমি উন্নয়ন পার্টি থেকে নিজের ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে ভোটের দিন সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হুমায়ুন কবীরের মূল অভিযোগ:
- ভোটাধিকারে বাধা: সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
- প্রশাসনিক সহায়তা: সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে পুলিশ সরাসরি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে এবং কারচুপি সহজ করে দিয়েছে।
- আটক ও হয়রানি: প্রশাসনিক অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাঁকে দিনভর (প্রায় ১২ ঘণ্টা) আটক করে রাখে।
থানা থেকে বের হয়ে আবেগাপ্লুত হুমায়ুন কবীর জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে জনসেবা করা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনশত কোটি রুপির বিতর্কিত মসজিদ নির্মাণ ও রাজনৈতিক পটভূমি
হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সব সময়ই এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। গত বছর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৩০০ কোটি রুপি ব্যয়ে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশজুড়ে শিরোনামে এসেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণে রাজ্য রাজনীতিতে তিনি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
“রাজনীতি ছাড়ার নাটক” — কড়া সমালোচনা বিজেপির
হুমায়ুন কবীরের এই কান্না এবং রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণাকে স্রেফ “নাটক” বলে অভিহিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ভোট কারচুপির সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
সজল ঘোষের প্রতিক্রিয়া:
- হুমায়ুন কবীরের এর আগেও একাধিকবার রাজনীতি ছাড়ার এবং দল বদলের ইতিহাস রয়েছে।
- ভোট কারচুপির দাবিটি রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের কৌশল মাত্র।
- সাধারণ মানুষকে তাঁর এই “কান্নার নাটকে” বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপসংহার
রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন কবীরের আবেগঘন আত্মসমর্পণ এবং বিজেপির পাল্টা আক্রমণ পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি সত্যিই রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াবেন নাকি এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা সময়ই বলে দেবে।

