ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বজনীন কল্যাণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী
রংপুর বার্তা বিভাগ: দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যেভাবে সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছিল, ঠিক একইভাবে একযোগে পরিশ্রম করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 

রংপুরের পাগলাপীরে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও একতাবদ্ধ বাংলাদেশ

পথসভায় বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মেলবন্ধন অপরিহার্য।

 

তিনি বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। প্রতিটি ধর্মের মানুষের ঘাম ও পরিশ্রমে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।”

 

জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ: কৃষি ঋণ মওকুফ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন:

 

  • কৃষি ঋণ মওকুফ: দেশের কৃষক সমাজের দীর্ঘদিনের সংকট লাঘবে এক দশক পর্যন্ত বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা: দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।
  • কৃষক কার্ড: খুব দ্রুত প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
  • ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতা: সামাজিক সম্প্রীতি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় প্রধানদের জন্য মাসিক ভাতার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ও উৎসুক জনতার ঢল

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুরের পাগলাপীর এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শারদীয় উৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুর থেকে রংপুর মহাসড়কের দু’পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। দীর্ঘ পথ জুড়ে উৎসুক জনতা করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

 

সারসংক্ষেপ

সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী দেশ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।