
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: পরিবেশ ও কৃষি জমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে যৌথ টাস্কফোর্সের এক অভিযানে মোট ৩৪টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ময়মনসিংহের সদর ও ত্রিশাল উপজেলা সীমান্তজুড়ে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ সদর এলাকা থেকেই ২১টি এবং ত্রিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নদীর ক্ষতি ও ফসলি জমির হুমকি: অভিযানের পটভূমি
দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বিশেষ করে সদর উপজেলার খাগডহর, ভাবখালী এবং ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি ও থানাঘাট এলাকা থেকে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন চলছিল। এছাড়া ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল, বালিপাড়া ও কানিহারী ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টেও একই কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল।
এর ফলে নদীর তীরবর্তী কয়েক একর উর্বর ফসলি জমি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। পাশাপাশি নদীভাঙনের কবলে পড়ে বেশ কিছু ভূমিহীন পরিবার তাদের আশ্রয় হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিল। অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন ও অভিযোগ জানান।
যৌথ টাস্কফোর্স সমন্বিত অভিযান
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান তাৎক্ষণিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই আদেশের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সার্বিক তদারকিতে সদর এবং ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
শনিবার সকাল থেকে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি থেকে শুরু করে ত্রিশাল উপজেলার ধলা পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকায় দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
- অভিযানের ক্ষেত্র: বেগুনবাড়ি থেকে ধলা
- জব্দ ও ধ্বংসকৃত ড্রেজার: ৩৪টি (সদরে ২১ টি, ত্রিশালে ১৩টি)
- সহযোগিতায়: কোতোয়ালি মডেল থানা ও ত্রিশাল থানা পুলিশ
প্রশাসন ও ইউএনও-র বক্তব্য
অভিযান প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন,
“অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। সদর ও ত্রিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ৩৪টি অবৈধ ড্রেজার ধ্বংস করেছি। জনস্বার্থ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের এই ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের স্বস্তি
জেলা প্রশাসনের এমন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষ ও কৃষক সমাজ। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগের ফলে নদীভাঙন কমবে এবং অসহায় পরিবারগুলো তাদের ভিটামাটি রক্ষা করতে পারবে। ভবিষ্যতে যেন এই চক্র আবারও নতুন করে ড্রেজার বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

