
বিশেষ প্রতিনিধি,ময়মনসিংহঃ
সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একই সময়ে ভিন্ন দুটি পদোন্নতি বা জ্যেষ্ঠতা তালিকায় নাম থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ মোঃ মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যক্তির দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা ও দ্বৈত সুযোগ গ্রহণের এমন ঘটনায় গোটা স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মূল পদ ও বর্তমান দায়িত্বের বিশদ বিবরণ
অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মোঃ মফিজ উদ্দিন তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মূলত ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ হিসেবে। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ‘সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক’ পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ’ হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
নিয়ম অনুযায়ী একজন সরকারি চাকরিজীবী তার নির্দিষ্ট ফিডার পদ এবং নির্ধারিত জ্যেষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পদ বা লাইনেই পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন। তবে মফিজ উদ্দিনের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কীভাবে সামনে এলো এই অনিয়ম?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনস্থ ‘স্যানিটারি ইন্সপেক্টর’ পদের যে খসড়া গ্রেডেশন বা জ্যেষ্ঠতা তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাতেও নাম রয়েছে মো. মফিজ উদ্দিনের। শুধু তাই নয়, একই সময়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন আরও একটি উচ্চতর পদের পদোন্নতির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর তদবির ও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের একাংশের মতে, যেখানে সাধারণ স্বাস্থ্য সহকর্মীরা বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেখানে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এমন দ্বৈত পদোন্নতির চেষ্টা পুরো প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ মোঃ মফিজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাকে ইতোমধ্যে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, “আমি স্যারদের বলেছি আমি এই পদের যোগ্য নই, যোগ্য কাউকে এই পদে বসান। সরকারি বিধি অনুযায়ী যেখানে পদোন্নতি হবে সেটাই আমি মেনে নেব।” তবে একই সাথে দুটি আলাদা তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি বিভাগীয় পরিচালকের ওপর ছেড়ে দেন এবং জানান যে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়া গ্রেডেশন তালিকায় যদি কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা অনিয়ম থেকে থাকে, তবে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। একই সাথে একজন ব্যক্তির ভিন্ন দুটি পদে পদোন্নতির তালিকায় নাম থাকার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলেও তারা নিশ্চিত করেছেন।
সাধারণ কর্মচারীদের দাবি ও প্রত্যাশা
স্বাস্থ্য বিভাগের সাধারণ ও বঞ্চিত কর্মচারীদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ও খসড়া তালিকা সংশোধন করা হোক। সেই সাথে মোঃ মফিজ উদ্দিনের এই দ্বৈত জ্যেষ্ঠতা এবং দ্বিমুখী পদোন্নতির তৎপরতা বন্ধ করার পাশাপাশি এর নেপথ্যে থাকা যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

