ত্রিশালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ইসলামী ফাউন্ডেশনের (ইফা) ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মডেল কেয়ারটেকার এর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ব্ল্যাকমেইল করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, কেন্দ্র পরিদর্শনের অজুহাতে তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি মেটাতে ব্যর্থ হলে চাকরিচ্যুত করা, কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

ব্যাংক হিসাব লক ও ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য

উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম কাচাচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শিক্ষক হাফেজ মোঃ শাহজাহান এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

  • অভিযোগের বিবরণ: অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর শিক্ষক শাহজাহান বকেয়াসহ তিন মাসের সম্মানী বাবদ ১৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। এ সময় ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা আদায় করেন।
  • অন্যান্য শিক্ষকের অভিজ্ঞতা: সানকিভাঙ্গা কেন্দ্রের শিক্ষক আব্দুল জব্বার জানান, ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গেলে তাঁর হিসাব লক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে অফিস থেকে যোগাযোগ করে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দর-কষাকষির মাধ্যমে ১০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা করার চেষ্টা করা হয়। একই ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন হাফেজ মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

বিধবা নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও সালিশের ঘটনা

শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে নৈতিক অবনতির অভিযোগ উঠেছে। বিধবা ক্যাটাগরিতে ইফা থেকে সেলাই মেশিন পাওয়া এক নারীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে মোবাইলে বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি পরিবারকে জানালে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত কে সতর্ক করা হয়। এমনকি এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তথ্য সংগ্রহকারী গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এই কেয়ারটেকার।

প্রশাসনের বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন সমস্ত অনৈতিক দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা অস্বীকার করেছেন।

তবে এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান বলেন, “অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ত্রিশালের সচেতন আলেম সমাজ ও স্থানীয় শিক্ষকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন, যাতে শিক্ষকরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই তাদের সম্মানজনক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।