শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট’

“ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬”।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬”।

স্টাফ রিপোর্টার:

শিক্ষার্থী সমাজে বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন কিছু উদ্ভাবনের মানসিকতা ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তাধারার প্রসার ঘটিয়ে আগামীর উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬”। জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে গৃহীত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ আগস্ট) সদর উপজেলার প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই স্কুলে এক ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিজ্ঞানের এই মহাসমাবেশে উপজেলার ১১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৩২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীর হাতে উপহার হিসেবে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগী এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বই, শ্রেণিকক্ষ কিংবা পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষাকে সহজ ও আনন্দময় করাই এ ধরনের প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বজায় রাখা আমাদের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। সফল বিজ্ঞানীদের কর্মময় জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে।”

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের (অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল। পুরো আয়োজনটি প্রধানত দুটি ভাগে পরিচালিত হয়—জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপ। প্রথম ধাপের পরীক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাধারণ মেধার মান যাচাইয়ে ১০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন রাখা হয়, যার মধ্যে ছিল—

  • পদার্থবিজ্ঞান

  • রসায়ন

  • জীববিজ্ঞান

  • গণিত

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)

  • মানসিক দক্ষতা

উপজেলা পর্যায়ের ফলাফল অনুযায়ী উভয় গ্রুপ থেকে সেরা পাঁচজন (১ম থেকে ৫ম স্থান অধিকারী) আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

পরীক্ষা শেষে খাতা মূল্যায়নের মধ্যবর্তী সময়ে এক মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কৌতুহলী প্রশ্ন তুলে ধরে উত্তর খুঁজে নেয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে গবেষণামুখী ও যুক্তিবাদী করে গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।