
ঢাকা: দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি করা হবে। এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা এবং খেলাধুলার যাবতীয় ব্যয় সম্পূর্ণ সরকারিভাবে বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
খেলাধুলাকে শিক্ষাক্রমের অংশ করার পরিকল্পনা
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকেই শিক্ষাক্রমের সঙ্গে খেলাধুলা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাঠ সংকট নিরসনে ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণ
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আমিনুল হক বলেন, মাঠ সংকট দূর করতে সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ৩ জন সংসদ সদস্য এবং দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ ও দেশীয় খেলাধুলা পুনরুজ্জীবন
ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খেলাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্বেল খেলার মতো শৈশবের জনপ্রিয় দেশীয় খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ‘কান্ট্রি গেমস’ নামে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রযুক্তির আসক্তি রোধে খেলাধুলার ভূমিকা
শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম বা ডিভাইস ব্যবহারের আসক্তি এবং নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। খেলাধুলার মাধ্যমে জটিল বিষয় যেমন—গণিত ও হিসাববিজ্ঞানকে আনন্দদায়ক ও সহজ উপায়ে শিশুদের মাঝে উপস্থাপন করা সম্ভব বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
প্যারা স্পোর্টস ও প্রতিবন্ধী শিশুদের বিকাশ
প্রতিবন্ধী শিশুদের সামাজিক সংকোচ কাটিয়ে খেলাধুলায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের লুকিয়ে না রেখে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে। বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান জাতীয় প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সফল প্যারা-ক্রীড়াবিদদের ইতিমধ্যে বিভিন্ন ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কর্মশালার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
- সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী

