
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | অক্টোবর ৩০
শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর ভরসা না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ময়মনসিংহ শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সম্পূর্ণ ডেঙ্গুমুক্ত করতে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে তাদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার বিতর্ক প্রতিযোগিতা
“ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির চেয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতাই বেশি কার্যকর”—এই বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ সিটি ও সদর উপজেলার মোট ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিতার্কিক দল অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
তরুণদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার উল্লেখ করেন, সাধারণত বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসাবাড়ির আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং পরিবেশ রক্ষায় এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।” তিনি স্কাউট, গার্ল গাইড বা রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন নাগরিক হিসেবেও সবার উচিত পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করা।
সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
ময়মনসিংহ শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের এই ঐতিহ্যবাহী শহরে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ফলে কেবল সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে পুরো শহরকে শতভাগ পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে তাকে বিনয়ের সঙ্গে সচেতন করতে হবে। সবাই নিজ উদ্যোগে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করলে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যুক্তিতর্ক ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।

