
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ও শিশুদের হামজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। মশক নিধনে ঝিমিয়ে পড়া কার্যক্রম চাঙ্গা করা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিতের দাবিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে “চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো কর্মসূচি” শীর্ষক এক প্রতীকী প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা জোরদার এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
“প্রশাসককে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেওয়া হবে না”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংস্থা (এনপিএস)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন:
“ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুগবে, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন—তা হতে পারে না। আমরা রাজপথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে তাঁর এই ঘুম ভাঙিয়ে দেব। নগরবাসীর জীবন নিয়ে অবহেলা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল মুখে সচেতনতার কথা বলে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মশা দমনে ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি কর্পোরেশনকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি ভূমিকার সমালোচনা
বক্তব্যে ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিশুদের হামজনিত কারণে প্রাণহানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট মাহবুব। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে যেকোনো স্বাস্থ্য সংকটে পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি দেখা গেছে। কিন্তু গত কয়েক মাসে বর্তমান প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে কতটুকু সফলতা দেখিয়েছে, তা নিয়ে আজ সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন জেগেছে।
তিনি আরও বলেন, এখনো প্রতিদিন মানুষ ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে কার্যকর সমাধান খোঁজা উচিত।
ডেঙ্গু টিকা আমদানির জোর দাবি
সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক উদাহরণের কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারিভাবে এই টিকা দ্রুত দেশে আনা প্রয়োজন।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো আইনি বা আর্থিক জটিলতা থাকে, তবে অন্তত বেসরকারিভাবে ডেঙ্গু টিকা আমদানির সুযোগ ও অনুমোদন দেওয়া উচিত, যাতে সামর্থ্যবান নাগরিকরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন।
নাগরিক সমাজের ৪ দফা দাবি
প্রতিবাদ সভা থেকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি নিম্নলিখিত জরুরি দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়:
- জরুরি মশক নিধন: নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ড্রেনে প্রতিদিন কার্যকর ওষুধ ছিটানো।
- বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান: জমে থাকা পানি ও ময়লা আবর্জনা দ্রুত অপসারণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো।
- স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসাসামগ্রী সুনিশ্চিত করা।
- টিকা আমদানির উদ্যোগ: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডেঙ্গু প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া।
উপসংহার:
ময়মনসিংহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন জটিল রূপ ধারণ করায় সাধারণ নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নগরবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ যদি যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ না করে, তবে আগামী দিনে এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

