
বরিশাল প্রতিনিধি
নথিপত্রে নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হলেও দীর্ঘ দুই বছর ধরে এলাকাতেই আসেননি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক। কলেজের জরুরি সভা থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রশাসনিক কাজের স্বাক্ষরের জন্য শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ঢাকায় তাঁর বাসভবনে যেতে হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ শহীদুল হক জামালের ছেলে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি একবারের জন্যও কলেজ ক্যাম্পাসে পা রাখেননি বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগের মূল দিকসমূহ:
ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম: নথিপত্রে সভাগুলো কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে সব মিটিং ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় সভাপতির ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে।
শিক্ষক ও কমিটির ক্ষোভ: দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রশাসনিক কাজের জন্য ঘন ঘন ঢাকায় যেতে বাধ্য হওয়ায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে কলেজের শিক্ষক ও পর্ষদ সদস্যদের মাঝে। তবে আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুঞ্জন: প্রবীণ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এলাকায় তাঁর সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো পদচারণা নেই। পূর্বে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় রাজনীতিতেও এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে সৈয়দ বজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে সভাপতির বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিয়া জানান, ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে এলাকায় কোনো সভা-সমাবেশ বা কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখেননি বা শোনেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হকের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রধান এই বিদ্যাপীঠে সভাপতির অনুপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

