কোচিতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে জ্বালানি সংকট: মাঝআকাশে ইঞ্জিল বন্ধ করে জরুরি অবতরণ

এয়ার ইন্ডিয়া
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
মাঝআকাশে জ্বালানি সংকটের কারণে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। সোমবার সকালে কেরালার কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবুধাবির উদ্দেশে উড্ডয়ন করার পর পরই এই বিপত্তি ঘটে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের ‘নাইন-৪১৫’ ফ্লাইটটি সকালে কোচি ছেড়ে যায়। তবে উড্ডয়নের মাত্র ৫০ মিনিট পর পাইলট লক্ষ্য করেন, বিমানের প্রথম ইঞ্জিনে জ্বালানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বর্তমান জ্বালানি দিয়ে আবুধাবি পর্যন্ত পৌঁছানো অসম্ভব বুঝতে পেরে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে কোচি বিমানবন্দরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ফিরে আসার পথেই জ্বালানির চাপ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য পাইলটরা বাধ্য হয়ে বিমানের প্রথম ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন এবং সফলভাবে কোচি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। মাঝআকাশে এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও পাইলটের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সকল যাত্রী নিরাপদে অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করেছেন।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এখনও এই জ্বালানি সংকটের নেপথ্যের কারণ বা বিমানে থাকা মোট যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি বিমান উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪১ জন এবং ভূমিতে থাকা ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। আজকের ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।