ময়মনসিংহ সদরে বিতর্কিত বদলির আদেশ: শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি স্থগিতের দাবিতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

শিক্ষা কর্মকর্তা
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে আকস্মিক বদলি করা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা মহলে চরম অসন্তোষ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে আকস্মিক বদলি করা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা মহলে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘুষের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং অফিসে সততা বজায় রাখার খেসারত হিসেবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। সদরের শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখতে অবিলম্বে এই বদলির আদেশ স্থগিতের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পর বদলি

গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মনিকা পারভীনকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি করে। একই আদেশে নান্দাইল থেকে ফজিলাতুন্নেছাকে ময়মনসিংহ সদরে পদায়ন করা হয়। আদেশে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক এক অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাকে সরালো একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল।

জানা যায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর ঘুষ দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারীকে জড়িয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জানার পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন নিজ অফিসের দুই কর্মচারীকে শোকজ করেন। এই ঘটনা তদন্তাধীন থাকা অবস্থাতেই তাকে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্বীকৃত ও সফল কর্মকর্তার সাফল্য

ময়মনসিংহ সদরে যোগদানের পর থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে আসছিলেন মনিকা পারভীন। ঝরে পড়া শিশুদের ক্লাসে ফেরানো, অবহেলিত অবকাঠামোর সংস্কার এবং শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে তিনি ছিলেন আপসহীন।

  • পুরস্কার ও স্বীকৃতি: কাজের স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার জন্য তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘সেরা শিক্ষা কর্মকর্তা’ হিসেবে সম্মাননা পান। এর আগে গৌরীপুর উপজেলাতেও তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • জনবান্ধব উদ্যোগ: অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের কারণে অল্প দিনেই তিনি সর্বমহলে সুপরিচিতি অর্জন করেন।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

বদিলর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শিক্ষক সমাজে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মনিকা পারভীনের নির্লোভ ও কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলেই সদরের প্রাথমিক শিক্ষা নতুন গতি পেয়েছিল। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া তাকে সরিয়ে দিলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আবারো ধীরগতির হয়ে পড়বে।

বদিলর বিষয়ে কথা বললে মনিকা পারভীন জানান, “সরকারি আদেশে জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে। আমি সবসময় অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেছি, বদলির পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা আমার জানা নেই।”

অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম একে স্বাভাবিক সরকারি প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করলেও, স্থানীয় শিক্ষক ও সুশীল সমাজ দ্রুত এই মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তার বদলির আদেশ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।