
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফলের এ চিত্র তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এক নজরে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার পরিসংখ্যান
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন।
- মোট পরীক্ষার্থী: ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন (অন্য পরিসংখ্যানে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন)
- ছাত্রী সংখ্যা: ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন
- ছাত্র সংখ্যা: ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন
- উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী: ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন
- অকৃতকার্য: ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন
এবারের পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী অংশ নেন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন।
দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পাসের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে ৫২.১২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নের রেকর্ড।
২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭.৭৪ শতাংশ। ২০০৫ সাল থেকে এ হার ৫০ শতাংশ পেরিয়ে ২০০৬ সালে ৬০ শতাংশের কোঠা ছাড়ায়। বিগত চার-পাঁচ বছরে কিংবা করোনা মহামারীর সময় এটি ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। বিগত ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। ফলে গত দুই দশকের মধ্যে এবারই পাসের হারে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
যেভাবে ফলাফল দেখা যাবে
শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএস—দুই মাধ্যমেই সহজেই নিজেদের রেজাল্ট জানতে পারবেন:
১. অনলাইন পদ্ধতি
শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd অথবা educationboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইনপুট দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে।
২. এসএমএস পদ্ধতি
যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে এসএমএস পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের (আবেদন) নিয়মাবলী
প্রকাশিত ফলাফলে যেসব শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট, তাদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আবেদন শুরুর তারিখ: ১ নভেম্বর
- আবেদনের শেষ তারিখ: ৭ নভেম্বর
- পদ্ধতি: সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
পরীক্ষার ব্যাকগ্রাউন্ড ও পেছনের কথা
গত ২ জুলাই সারাদেশে একযোগে সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা শেষ করার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করে পুনঃতফসিল অনুযায়ী শেষ করা হয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এ সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
- এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কত?এ বছর সার্বিক পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ।
- খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন কবে থেকে শুরু হবে?পুনর্নিরীক্ষণের অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে এবং চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
- অনলাইনে ফলাফল দেখার ওয়েবসাইট কোনগুলো?

