ত্রিশালে ভবন নির্মাণকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

শ্রমিকের মৃত্যু
ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নির্মাণাধীন একটি তিনতলা ভবন থেকে রড নামানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাইপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহতদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শ্রমিক হলেন:

  • জিসান (১৮): ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তাড়াইল এলাকার রতন মিয়ার ছেলে।
  • সিরাজুল ইসলাম (২২): ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বীরামপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটে

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ঠিকাদার মো. হাসান জানান, ভবনের ছাদে রডের কাজ শেষ হওয়ার পর কয়েকটি উদ্বৃত্ত রড নিচে নামানোর প্রয়োজন হয়। শ্রমিকদের রড নিচে নিয়ে যেতে বলা হলে তারা সিঁড়ি ব্যবহার না করে ভবনের পাশ দিয়ে সরাসরি তা নামানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় একটি লম্বা রড ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে। এতে রডে থাকা দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ মাহমুদ জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক ধারণামতে, ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ভবন মালিক আতাউর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনতলার ছাদ থেকে রড নিচে নামানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই শ্রমিক নিচে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।