উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলি স্থগিতের আবেদন

মনিকা পারভীন
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের হঠাৎ নান্দাইল উপজেলায় বদলির আদেশ কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানবিক দিক এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার স্বার্থে এই বদলি আদেশের পুনর্বিবেচনা দাবি করা হচ্ছে।
মূল বিষয়াবলী ও ঘটনাপ্রবাহ
  • বদলির আদেশ: ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জনস্বার্থে তাঁকে সদর থেকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি করা হয়।
  • পারিবারিক ও মানবিক কারণ:
    • তাঁর একমাত্র কন্যা সন্তান বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
    • তাঁর স্বামী ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
    • একই শহরে স্বামী-স্ত্রীর অবস্থান এবং সন্তানের পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ১০ সেপ্টেম্বর বদলি স্থগিতের জন্য মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।
  • সংসদ সদস্যের সুপারিশ: ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বদলি স্থগিতের সুপারিশ করে ডিও (DO) লেটার প্রদান করেছেন।
অভিযোগ ও প্রশাসনিক পটভূমি
  • অভিযোগের ধরণ: ‘ঘুষ.সাইট’-এ এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠলে কার্যালয়ের দুই কর্মচারী (এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমান)-কে ৩১ আগস্ট শোকজ করা হয়।
  • তদন্ত ও পদক্ষেপ: তদন্ত প্রতিবেদন ৬ সেপ্টেম্বর জমা হয়। লক্ষণীয় বিষয়, মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই; বরং তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
  • কর্মকাল: ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয় পরিদর্শন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হ্রাস এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন।
  • শিক্ষক ও অভিভাবক সমাজ: সদরের প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকগণ তাঁর বর্তমান পদে বহাল থাকার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেছেন।