
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ কারাভোগের পর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর কারা ফটকে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতির চূড়ান্ত জয় হবে: আখতারুজ্জামান
কারাগার থেকে বের হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান বলেন, বিগত কিছুদিন ও এক মাসের নানা কষ্ট ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পুনরায় সবার সামনে হাজির হতে পেরেছেন।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে স্পষ্ট করে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকার মানসিকতা নিয়েই তিনি গড়ে উঠেছেন। এজন্য তিনি তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেন—
“সত্যের জয় হবেই হবে। আমরা সত্যের রাজনীতি করি, আমরা ন্যায়ের রাজনীতি করি। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির রাজনীতি করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতি করি। সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা আল্লাহর সঠিক পথে থেকে তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠা ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে দেশের স্বাধীনতার মূল চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
কারা ফটকে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও কষ্ট করে ছুটে আসা তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তি জুগিয়েছে।
আগামীদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ বা কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণের বিষয়ে দলীয় প্রধানের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, “জামায়াতের আমির সাহেব আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আগে উনার কাছে পৌঁছাবো এবং উনার দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়ে পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে আমাদের সিদ্ধান্ত অবশ্যই জানাবো, ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় কারা ফটকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

