
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর বোর্ডে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফলাফলে বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা সাফল্য ও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে।
শনিবার (আজ) সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. এনামুল হক।
এক নজরে ময়মনসিংহ বোর্ডের ফলাফল ও পরিসংখ্যান
বোর্ড সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী।
- মোট পরীক্ষার্থী: ৭৩,৪২০ জন
- মোট পাস: ৩৬,৩৫৪ জন
- পাসের হার: ৫১.৪৪%
- মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তি: ২,১৩৭ জন
ফলাফলে এগিয়ে ছাত্রীরা
এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি এবং পাসের হার—উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রদের পেছনে ফেলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন ছাত্রীরা। পাসকৃত মোট ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে—
- ছাত্রী: ২০,৭০৭ জন
- ছাত্র: ১৫,৬৪৭ জন
পাশাপাশি, বোর্ডে এ বছর সর্বোচ্চ সম্মান জিপিএ-৫ লাভ করেছেন মোট ২ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী।
শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৫টি, শূন্য পাসের সংখ্যা ১৯
ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে থাকা মোট ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চমৎকার সাফল্যের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে বিপর্যয় ঘটেছে।
- শতভাগ পাস: ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছেন।
- শূন্য পাসের হার: ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এ বছর পাস করতে পারেননি।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদত উল্লাহ, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আ খ ম কামাল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক এস এম আরিফুর রহমানসহ বোর্ডের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কোন বিষয়ে খারাপ ফল? কঠোর হুঁশিয়ারি বোর্ডের
শূন্য পাস এবং সামগ্রিক ফলাফল পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে দায়ী করেছে বোর্ড। সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ জানান, মূলত ইংরেজি এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয় এবং যে ১৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

