
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে পদোন্নতি ও সুবিধাজনক স্থানে বদলিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতি ও কোটি টাকার অনিয়মের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ড. প্রদীপ কুমার সাহার বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ও চাকরিবিধি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় তড়িঘড়ি করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তিনি এই অনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
নিচে এই দুর্নীতির পেছনের প্রেক্ষাপট, সিন্ডিকেটের কর্মপদ্ধতি এবং ভুক্তভোগীদের দাবির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
চাকরির শেষ সময়ে বেপরোয়া পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য
অভিযোগে প্রকাশ, ড. প্রদীপ কুমার সাহা অবসরে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন। বদলি এবং কাঙ্ক্ষিত পদে উন্নীত করার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এতে করে যোগ্য, সৎ ও জ্যেষ্ঠ কর্মচারীরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের প্রভাব ও নেপথ্যের কারিগর
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের এই অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যালয়ের ভেতরের একটি অসাধু চক্র প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই সিন্ডিকেটের মূল দুই কারিগরের নাম:
১. মফিজ উদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা)
মূলত স্বাস্থ্য সহকারী পদের কর্মচারী মফিজ উদ্দিন পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে উন্নীত হন। মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গ্রেডেশন তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও তিনি এই দপ্তরের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পদোন্নতি ও অনুকূল বদলির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের মূল দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই রয়েছে বলে অভিযোগ।
২. মুখলেস রহমান (ক্যাশিয়ার থেকে সরাসরি হিসাব রক্ষক)
এই সিন্ডিকেটের অপর আলোচিত চরিত্র মুখলেস রহমান। তথ্যমতে, তিনি সিকিউরিটি গার্ড (নিরাপত্তারক্ষী) হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রথমে অফিস সহকারী এবং পরে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ‘হিসাব রক্ষক’ পদে পদায়নের জন্য ক্যাশিয়ার হিসেবে ন্যূনতম ৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। তবে সকল আইনি বাধ্যবাধকতা ও অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে স্বাস্থ্য পরিচালক তাঁকে সরাসরি হিসাব রক্ষক পদে বসিয়েছেন।
বর্তমানে এই দুই কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটই পুরো কার্যালয়ের বদলি ও পদোন্নতির অলিখিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও পেনশন স্থগিতের জোর দাবি
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তাঁরা মনে করছেন, স্বাস্থ্য খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই অনিয়মের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যে:
ড. প্রদীপ কুমার সাহা অবসরে যাওয়ার পূর্বেই যেন তাঁর এবং তাঁর সিন্ডিকেটের যাবতীয় আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়।
তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পেনশনের সকল সরকারি কাগজপত্র ও ফাইল ছাড়করণ সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই বিশৃঙ্খলা রোধে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

