
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার সাবেক সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে অপহরণ, গুমের চেষ্টা এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবকের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সোমবার ত্রিশাল থানায় এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয়।
দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা লিগ্যাল এইডে দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত হলো।
বাসস্ট্যান্ড থেকে অপহরণ ও নির্যাতন: ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক গত ১১ জুন ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচ থেকে অপহৃত হন।
অভিযোগে বলা হয়:
- অপহরণের ধরন: এসআই নাহিদ পারভেজের নেতৃত্বে স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নাজমুলকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।
- শারীরিক নির্যাতন: অপহৃত যুবককে বিভিন্ন নির্জন স্থানে ঘুরিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
- মুক্তিপণ দাবি: পরে তাকে একটি অজানা স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে নাজমুলকে মেরে ফেলার বা গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
৯৯৯-এ কল ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনার দিন রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কোনো উপায় না দেখে অপহৃত নাজমুলকে রক্ষায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অপহৃত নাজমুলকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বিচার পাওয়ার পথ পরিক্রমা
উদ্ধারের পরদিন ১২ জুন ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বিচার পাওয়ার দীর্ঘ পথ পরিক্রমা:
- পুলিশ প্রশাসনে ব্যর্থ আবেদন: স্থানীয় থানায় টানা দুই মাস ঘুরলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
- জেলা লিগ্যাল এইডে আবেদন: প্রশাসনিক কোনো সাড়া না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আইনি সহায়তার আবেদন জানায়।
- আসামিদের অনুপস্থিতি: গত ২ সেপ্টেম্বর লিগ্যাল এইড অফিস থেকে শুনানির জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠানো হয়। তবে অভিযুক্ত এসআই নাহিদসহ অন্য কোনো আসামি উপস্থিত হননি।
- আদালতের মাধ্যমে মামলা: লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে না পেরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করে।
আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ত্রিশাল থানাকে সরাসরি মামলা রুজু করার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বর্তমান অবস্থান
জানা গেছে, অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাঁকে বদলি করে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে পদায়ন করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের মামলা রুজু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

