
আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আগামী প্রজন্মকে মুক্ত রাখতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন” কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) আয়োজনে এবং দীপিকা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহায়তায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে (অঞ্চল-৩) এ সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ
সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বেশ কিছু জোরালো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আইন অনুযায়ী:
- বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ: তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা এবং পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ওপর কঠোর জোর দেওয়া হয়।
- ১০০ মিটার বাউন্ডারি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলের ১০০ মিটার সীমানার মধ্যে যেকোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় কঠোরভাবে বন্ধ থাকবে।
- জরিমানা ও দণ্ড: আইন অমান্যকারী ও নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত জরিমানা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ
অনুষ্ঠানে নাটাব ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৩) ফৌজিয়া নাজনীন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে তামাকমুক্ত ময়মনসিংহ গড়তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা গেলে দেশে তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
উক্ত সভায় ধূমপান ও তামাকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জাবেদ ইকবাল
- সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক মো: শফিকুল ইসলাম ও সুমন আহমেদ
- উশিকা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আ: কদ্দুছ
- নাটাব প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহমদ এবং প্রোগ্রাম অফিসার রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য অংশীজন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশব্যাপী তামাকজাত পণ্যের বিস্তার কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।

