
নুরুল আমিন, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দেওয়ানীয়া বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জোৎস্না আরা বেগমের দীর্ঘ ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটেছে। চার দশকের প্রদেয় সেবা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে দেয়া হয়েছে এক রাজকীয় বিদায়ী গণসংবর্ধনা।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজনদের যৌথ উদ্যোগে এই প্রাণবন্ত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ একপর্যায়ে আবেগঘন এক মিলনমেলায় রূপান্তরিত হয়।
আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে ও মফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মনিরুজ্জামান সোমেল। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষিকার সম্মানার্থে এক শ্রদ্ধাঘন মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নূরে গুলশান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মিলন, প্রাক্তন শিক্ষক মজিবুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আয়েশা মোস্তারি এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ, সুজন, ওসমান গনি, মামুন মিয়া, মোঃ সেলিম ফরাজী, মুফতি মাওলানা সোহাইল মিয়া, মোঃ রাসেল ও সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক সেলিম ফরাজী বিদায়ী শিক্ষিকার স্মরণে বলেন, “জোৎস্না ম্যাডাম ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি মাতৃস্নেহে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তাঁর শেখানো নৈতিকতা ও জীবনের আদর্শ আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণা যোগাবে।”
উপস্থিত বক্তারা উল্লেখ করেন, চার দশকের কর্মজীবনে জোৎস্না আরা বেগম যে সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে দিয়েছেন, তার সুফল হিসেবে তাঁর বহু শিক্ষার্থী আজ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
স্মৃতিচারণ ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে প্রিয় শিক্ষিকাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করতে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়। বিদায়বেলায় সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসীর চোখে নেমে আসে অশ্রুর ধারা। অশ্রু ও ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় ক্ষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক আদর্শ শিক্ষকের কর্মময় যাত্রা।

