
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান সরেজমিনে যাচাই করার পাশাপাশি তিনি নিজেই শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং রামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ইউএনও আরিফুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে একই বেঞ্চে বসে তাদের বাংলা ও ইংরেজি রিডিং পড়ার দক্ষতা পরীক্ষা করেন।
শিক্ষার্থীদের শিখনফল নিশ্চিত করতে একপর্যায়ে তিনি হাতে চক-ডাস্টার তুলে নেন। ব্ল্যাকবোর্ডে বিভিন্ন বিষয় সহজভাবে লিখে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পাঠদান শুরু করেন। ইউএনওর এই ব্যতিক্রমী ও আনন্দদায়ক পাঠদান পদ্ধতি খুদে শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগের সাথে অনুসরণ করে।
বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি। তাই কেবল বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই চলবে না; তারা দৈনিক কী শিখছে এবং কতটা আয়ত্ত করতে পারছে, তাও নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর পড়ার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, “একটি সমৃদ্ধ আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি আনন্দদায়ক উপায়ে পাঠদানের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন সরাসরি অংশগ্রহণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষই অত্যন্ত উৎসাহিত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

