মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর নাম

সবচেয়ে জোরালো আলোচনায়

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বস্ত দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মির্জা ফখরুল একমাত্র বৈধ প্রার্থী হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন।

নেতৃত্বে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনসমূহ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এবং সরকারি দায়িত্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসা অবশ্যম্ভাবী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে দলের মহাসচিব পদ নিয়ে। পরিবর্তন আসতে পারে এমন ক্ষেত্রগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে

দলীয় একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দলের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে রাজপথে রিজভীর ভূমিকা অবিস্মরণীয় এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর ভিন্ন একটি মতও রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, মহাসচিব পদে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী এবং তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশতে পারেন—এমন কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রিজভীর পাশাপাশি এই পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দল থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, তিনি সেটিই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকদের এখতিয়ারে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান চাইলে যেকোনো যোগ্য নেতাকেই এই দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন।

২. স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’-তে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়াবে দুটিতে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় একটি পদ আগেই শূন্য হয়েছিল।

এই দুটি শূন্য পদের বিপরীতে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থীদের তালিকায় যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে:

  • আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ভাইস চেয়ারম্যান)
  • মোহাম্মদ শাহজাহান (ভাইস চেয়ারম্যান)
  • শামসুজ্জামান দুদু (ভাইস চেয়ারম্যান)
  • জয়নুল আবদীন ফারুক (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)
  • রুহুল কবির রিজভী (সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)

তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল সামনে থাকায় এই মুহূর্তে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণ নাও করা হতে পারে।

৩. স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য রদবদল

প্রশাসনিক পর্যায়েও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ শূন্য হলে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করার কথাও ভাবা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

৪. ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের জল্পনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর বর্তমান সংসদীয় আসন (ঠাকুরগাঁও-১) আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হবে। এর ফলে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। এই আসনে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলীয় ফোরাম থেকে অন্য কোনো হেভিওয়েট নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়ে ইতিমধ্যে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।