নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল প্রতিদিনঃ বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে পর পর চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, চোর সিলিং ভেঙে ও জানালার স্টিলের রড কেটে কক্ষে প্রবেশ করে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভিতর চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হল কৃষিকন্যা এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।
শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ই মে) রাতে কৃষিকন্যা হলের (খ) ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষের সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে নগদ প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং আইডি কার্ডসহ দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এক শিক্ষার্থী জানান, রিডিং রুম থেকে ফিরে দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে সে জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পান। চিৎকার করলে চোর দ্রুত পালিয়ে যায়। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ছাত্রী বাড়িতে চলে গেছে তাই হল গুলো তুলনামূলক ফাঁকা ছিল
এর পর শনিবার (১৬ই মে) দিবাগত রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের (ডি) ব্লকের চার তলার ৪৪১ ও ৪৪০ নম্বর কক্ষেও চুরির হয়েছে। অভিযোগ আছে, চোর জানালার দুটি স্টিলের রড কেটে কক্ষে প্রবেশ করে এবং মূল্যবান মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
**নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ**
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি- চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকার পরেও চোর কীভাবে চার তলায় উঠে কক্ষে প্রবেশ করলো, তা নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি প্রয়োজন। তারা বলেন, একের পর এক চুরির ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী হলের মেজবাউল হক মিজু বলেন, “চারতলার মতো জায়গায় উঠে জানালার রড কেটে চুরি করা কিভাবে সম্ভব হয়, সেখানে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীদের আরোও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত এবং হল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
**প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা বলা হলো**
কৃষিকন্যা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ডক্টর আনিসুজ্জামান ত্রিশাল প্রতিদিনকে বলেন, “হলের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় প্রয়োজনের থেকে কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। চুরির এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে মনে করছি।”
সোহরাওয়ার্দী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ডক্টর মোঃ বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, “সোহরাওয়ার্দী হলে চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।এই ঘটনার কারণ ও প্রক্রিয়া উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য মতে, শিক্ষার্থীরা রুমে থাকা অবস্থাতেই জানালা কেটে চুরি হয়েছে, যা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ মাত্রই নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাকৃবির নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, “ প্রতিটি হলের নিজস্ব নিরাপত্তা থাকলেও সার্বিক নজরদারির স্বার্থে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সেকশন সর্বদা তৎপর। কৃষিকন্যা হলের ঘটনার পর চিফ সিকিউরিটি অফিসারকে পাঠিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিশাল ক্যাম্পাসে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা, যার সুযোগ নিয়ে চোরেরা অন্ধকার ও আড়ালে থাকা সীমানাগুলোকেই টার্গেট করে।”
বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ডক্টর কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, আমরা প্রভোস্টদের সাথে কথা বলেছি। হলের ভেতরের নিরাপত্তায় ঘাটতি আছে, অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরারও কভারেজ নেই। এই দিকগুলোতে নজরধারি জোরদার করতে হবে। প্রক্টোরিয়াল বডি, নিরাপত্তা সেকশন, ডিন এবং প্রভোস্টদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
