
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল ওই আয়োজনে শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের আয়োজন যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ভারতকে আগে থেকেই কূটনৈতিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তারপরও ভারতীয় ভূখণ্ডে এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছে।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার
একই দিন দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন ৭৮ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, যিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, গ্রেপ্তার কিংবা কারাবরণের আশঙ্কা থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এ সময় তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা সংযুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা তাঁর দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নেই।
যা বলছে ভারত সরকার
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজ দেশে দণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে অন্য দেশের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক উসকানি কিংবা ভীতিপ্রদর্শনমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে বলেছেন, বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সেখানে দেওয়া কোনো বক্তব্যের দায় বা সমর্থন ভারত সরকার বহন করে না।
এদিকে দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকার।

