
ময়মনসিংহ, ৫ আগস্ট: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
নিজস্ব প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো: আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব মো: শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ.এম. শোয়াইব।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা গুলোর পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এসব ঘটনার জেরে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
ছাত্রদল নেতাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও মানসিক অবস্থার দিক টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে কারও শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাক, এমন সিদ্ধান্ত তারা সমর্থন করেন না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সহনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব পক্ষকে ধৈর্যশীল আচরণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণে ভবিষ্যতে ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২৪ জুলাই প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষ বাধে, যাতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এর পর ২ আগস্ট রাতে অনলাইনে বাগবিতণ্ডা কে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হন। এরপর ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে ফের এই চার হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বিক্ষোভ হয়, যা ক্যাম্পাসে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে। ঘটনাগুলো তদন্তে গত ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

