
আরিফ রব্বানী, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ):
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নিয়মিত নিবিড় টহল ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ত্রিশাল থানা সূত্রে জানা গেছে, ধানীখোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। ফলে কোনো ধরনের আতঙ্ক ছাড়াই স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবে অংশগ্রহণ করছেন।
মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়
উৎসব উদযাপনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার এবং ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় কাজ করছেন এসআই জাকির হোসেন। পূজা মণ্ডপগুলোতে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।
পরিদর্শনকালে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় ত্রিশাল থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি
পরিদর্শনকালে এক বক্তব্যে এসআই জাকির হোসেন বলেন:
“বাংলাদেশ বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে একসাথে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী বা কুচক্রী মহল এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চক্রান্তে লিপ্ত হতে চায়।”
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটানোর বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিরাপত্তাকর্মীদের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির নির্দেশ
পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করে তিনি বলেন, মানুষ যখন রাতে কিংবা নিরিবিলি সময়ে বিশ্রামে থাকে, তখন দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় সার্বক্ষণিক সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

