জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ক্যাম্পাসে গাছ কাটা নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থানান্তর: প্রশাসন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ক্যাম্পাস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ক্যাম্পাস

ত্রিশাল প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানউবি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গাছ কাটা হয়নি, বরং বৈজ্ঞানিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে মাটি ও শিকড়সহ সেগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘বৃক্ষ নিধন’ এবং ‘বৃক্ষ স্থানান্তর’ সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি বিষয়। স্থানান্তরিত গাছগুলো যাতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও উদ্যানতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ চলছে।

সবুজ ক্যাম্পাস বিনির্মাণে নতুন উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারই ধারাবাহিকতায় (২০২৬–২০৩০) মেয়াদে সরকারের ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সময়ে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন:

  • ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডাঃ মাহাবুবুর রহমান (লিটন)
  • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড: মামুন আহমেদ
  • বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন

যা বললেন উপাচার্য

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন,

“আমরা মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও পরিকল্পিত ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু গাছ সরিয়ে অন্যত্র রোপণ করা হয়েছে, কোনো গাছ নিধন করা হয়নি। পাশাপাশি নতুন গাছ রোপণের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে, যার জন্য ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের সরকারি অনুদান পাওয়া গেছে।”

আইনি সতর্কতা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পেনাল কোড (১৮৬০) এবং তথ্য অধিকার আইন (২০০৯) অনুযায়ী অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সুস্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। তাই ভিত্তিহীন তথ্যে কান না দিয়ে ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।