ব্রহ্ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর প্রশাসন: ময়মনসিংহ সদরে ২১ টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস

স্টাফ রিপোর্টার | ময়মনসিংহ

নদের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা, তীরের ফসলি জমি এবং ভূমিহীন পরিবারের আবাসন রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তোলার অপরাধে র যৌথ অভিযানে ২১টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ঘটনাস্থলেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযান ও বর্তমান চিত্র

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি থেকে ত্রিশাল সীমান্ত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করে টাস্কফোর্স। অভিযানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম বন্ধে নদের একাধিক স্পর্শকাতর পয়েন্টে একযোগে ড্রেজার বিরোধী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের পটভূমি ও জনদুর্ভোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খাগডহর ও ভাবখালী ইউনিয়নসহ নগরীর কালীবাড়ি এবং থানাঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে এবং এতে:

  • ফসলি জমির ক্ষয়: বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
  • বসতভিটার হুমকি: স্থানীয় বেশ কয়েকটি ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার তাদের একমাত্র আশ্রয়ন বা বসতবাড়ি হারানোর মুখে পড়ে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্র প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জনস্বার্থ বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে সদর ইউএনও-কে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কড়া বার্তা

অভিযান শেষে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন,

“ব্রহ্মপুত্র নদের ঐতিহ্য, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থ রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও টাস্কফোর্স অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষ।