
ঢাকা/নয়াদিল্লি: মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঝুললেও ভারতে দীর্ঘ দুই বছরের নির্বাসন শেষে নিজ দেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক নেত্রী এ ঘোষণা দেন।
উক্ত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে যুক্ত ছিলেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাকে আটক করা হতে পারে বা কারাগারে পাঠানো হতে পারে, তবে ভয় কখনো জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব নির্ধারণ করতে পারে না। দেশের মানুষ যখন কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি দূরে থাকতে পারি না।” তিনি স্পষ্ট জানান, উপযুক্ত সময় এলে দেশে ফেরার সঠিক তারিখ ঘোষণা করা হবে, তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি ফিরতে আগ্রহী।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বক্তব্যে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান। একই অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা গঠিত সরকারের সঙ্গে তাঁদের এই মুহূর্তে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আনুষ্ঠানিক সংলাপ নেই।
আইনি জটিলতা ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে নয়াদিল্লি পাড়ি জমান শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়ায় সহিংসতা উসকে দেওয়া, হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে একাধিকবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও, ভারত সরকার কেবল জানায় যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক তিক্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ‘ব্রিকস’ (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারত থেকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, এই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কোনো বেসরকারি ফোরামে ব্যক্ত মতামতকে সরকার সমর্থন বা প্রতিনিধিত্ব করে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
তথ্যসূত্র- আলজাজিরা

