ত্রিশালে কাঁচা বাজার ও গো-হাটা মাঠে মার্কেট-পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের শাটডাউন, চরম ভোগান্তিতে ক্রেতারা

দোকানপাট বন্ধ
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গো-হাটা ও কাঁচা বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রেখে এ কঠোর শাটডাউন কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল প্রতিদিন:

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার গো-হাটা মাঠে ‘নজরুল সিটি শিশু পার্ক ও খেলার মাঠ’ এবং সংলগ্ন কাঁচা বাজারে আধুনিক ‘কিচেন মার্কেট’ নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিনব্যাপী শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যার ফলে ওই এলাকার সকল দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।

উদ্বোধনের আগেই তীব্র প্রতিবাদ ও কর্মসূচি

জানা গেছে, ত্রিশাল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গো-হাটা মাঠে শিশু পার্ক ও খেলার মাঠ এবং পাশের কাঁচা বাজারে কিচেন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও শুভ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

তবে এই প্রকল্পের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পূর্বঘোষণার অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে গো-হাটা ও কাঁচা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গো-হাটা ও কাঁচা বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রেখে এ কঠোর শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

চরম ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতারা

হঠাৎ করে এ ধরনের শাটডাউন ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা। কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই কাঁচা বাজারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বাজার করতে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ বাজার বন্ধ থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সদাই কিনতে এসে দোকান বন্ধ দেখে তাদের হতাশ হয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী গো-হাটা মাঠ এবং কাঁচা বাজারে মার্কেট বা পার্ক নির্মাণ করা হলে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়বেন এবং তাদের জীবিকা অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে ঐতিহ্যবাহী এই স্থানগুলোতে স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ত্রিশাল পৌর কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।