
বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ:
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে সরকারের অন্যতম প্রধান ফ্ল্যাগশিপ কার্যক্রম ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এ কর্মসূচির আওতায় খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স ও ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড ও মাসিক ভাতা?
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ সরদার ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা ও ভাতা প্রদানের শর্তাবলী বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন:
- কারা পাবেন কার্ড: ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক জ্যেষ্ঠ নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
- ভাতার পরিমাণ: কার্ড সব পরিবারের নারীপ্রধান পেলেও শুধুমাত্র অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানেরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাসিক ২, ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
- বাছাই পদ্ধতি (PMT Score): বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT) পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে (অতি দরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) ভাগ করা হয়েছে। যেসব পরিবারের পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম, শুধুমাত্র তারাই ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।
ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও ‘অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব’ হস্তান্তর
১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের মাঝে ডিজিটাল সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি বৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার এর হাতে অ্যান্ড্রয়েড ‘ট্যাব (Tab)’ তুলে দেন, যাতে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা যায়।
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার তাগিদ
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন:
“ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করছে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো প্রকৃত নিম্ন আয়ের পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে সরকারের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।”
সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলার প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার সুফল পৌঁছে দিতে সমাজসেবা কার্যালয় নিরলসভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান সঞ্চালনায় অবহিতকরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
- বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলী হায়দার ভূঁইয়া
- জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহনাজ পারভীন
- উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ।
সংবাদের পটভূমি ও সামাজিক গুরুত্ব
‘স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’ বাস্তবে রূপ দিতে সরকারের এই ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করবে। সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ভাতা পৌঁছানোর ফলে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

