
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা চালকরা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চালকদের ক্ষোভ ও অভিযোগ
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করার পরেও তাঁরা প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পাচ্ছেন না। গ্যাস সংকটের কারণে নিয়মিত গাড়ি চালাতে না পারায় তাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় এবং গাড়ির কিস্তি পরিশোধে তাঁরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন।
ত্রিশালের অটোরিকশাচালক লাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাস না থাকলে আগে থেকেই পাম্পে নোটিশ দেওয়া উচিত। একজনকে গ্যাস দিয়ে অন্যজনকে বঞ্চিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
গফরগাঁওয়ের চালক জনি মিয়া বলেন, “গ্যাস ছাড়া গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমাদের জীবন-জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে এর দায় কে নিবে।”
চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
হঠাৎ এই মহাসড়ক অবরোধের ফলে জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুরগামী শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান। যাত্রীরা দ্রুত গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
প্রশাসনের ভূমিকা
ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মাওলা তালুকদার জানান, আন্দোলনকারীদের প্রথমে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁরা কিছুক্ষণ পর পুনরায় সড়কে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে বলা হলে চালকরা অবরোধ তুলে নেন এবং এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

