ময়মনসিংহে পতিতাপল্লীতে অভিযান: ফরিদপুরের তরুণী উদ্ধার, গ্রেপ্তার সর্দারনী

ময়মনসিংহ নগরীর গাংগিনার পাড় এলাকার রমেশ সেন রোডের পতিতাপল্লীতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারের শিকার ফরিদপুরের এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এই অভিযানে পতিতাপল্লীর সর্দারনী বিনা খাতুন ওরফে বিনা (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী নবী হোসেন বাবু (৪২) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অভিযানের নেপথ্য ও উদ্ধার অভিযান

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নগরীর রমেশ সেন রোড এলাকার পতিতাপল্লীতে একটি চৌকস পুলিশ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে পতিতাপল্লীর অসাধু চক্র বিনা খাতুন ও তার স্বামী বাবুর অবৈধ জিম্মায় আটকে রাখা ফরিদপুরের তরুণী রিক্তা আক্তার (২২)-কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সর্দারনী বিনা খাতুনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত নবী হোসেন বাবু পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যেভাবে নিখোঁজ হন ওই তরুণী

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কোতোয়ালী থানাধীন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের জব্বার বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের বেপারীর মেয়ে রিক্তা আক্তার গত বছরের ২২ অক্টোবর দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মায়ের ওপর রাগ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বাবা আবুল খায়ের বেপারী সে সময় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন (নম্বার-১৯০৬, তারিখ-২৩ অক্টোবর ২০২৫)। পরবর্তীতে মেয়ের সন্ধান পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ময়মনসিংহে যোগাযোগ করে।

মানবপাচার আইনে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

উদ্ধারকৃত তরুণীর পিতা আবুল খায়ের বেপারী বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৪৭, তারিখ-১৮ আগস্ট ২০২৬)।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত তরুণীকে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।