ভালুকায় তীব্র গ্যাস সংকট: ২০ কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা, উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে

প্রতিকী ছবি

মোঃনাজমূল ইসলাম | ভালুকা (ময়মনসিংহ)ঃ

ময়মনসিংহ বিভাগের ভালুকা শিল্পাঞ্চল এখন ভয়াবহ গ্যাস সংকটে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যপক ভাবে ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ২০টি কারখানার শ্রমিকরা এখন ছুটিতে । বৃহস্পতিবার যথারীতি সকালে কাজ শুরু হলেও সময়ের সাথে গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় ফলে দুপুরের খাবারের আগেই পর্যায়ক্রমে কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

শিল্প পুলিশ-০৫ এর পুলিশ সুপার মোঃ আনছার উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে।

গ্যাস সংকটের সার্বিক চিত্র

শিল্প পুলিশের বরাতে জানা যায়, ভালুকা শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। বর্তমান প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানা মারাত্মক ভাবে বিপাকে পড়েছে  পৌর এলাকা ও তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের আশপাশের গ্যাসের সামান্য চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে।

জেনারেটর ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাত গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সুতা ও বস্ত্রশিল্প (টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল)।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

  • টয়ো স্পিনিং মিলস (গৌরীপুর): ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাকি ৭টি সচল রাখা হয়েছে পিডিবির বিদ্যুতের সাহায্যে।
  • সীমা স্পিনিং মিলস (ভালুকা): ৩০টি মেশিনের সবগুলোই বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে।
  • অন্যান্য কারখানা: বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল এবং ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন অর্ধেকের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের ৪০ শতাংশ মেশিন অচল এবং এক্সিলেন্ট সিরামিকসের ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

যে ২০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে যেসব কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড
  • সুলতানা সোয়েটার্স
  • লিজ ফ্যাশন
  • টিএম টেক্সটাইল
  • ত্রিশাল টেক্সটাইল
  • বিএসপি স্পিনিং মিল সহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান।

কী বলছে তিতাস কর্তৃপক্ষ?

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, ভালুকা অঞ্চলের জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআই ক্ষমতার দুটি লাইনে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে অর্ধেকের নিচে অর্থাৎ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই।

এদিকে গ্লোরি টেক্সটাইলের ইউটিলিটি ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরেই তাঁরা চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ১৫ পিএসআই গ্যাসের স্থলে মিলছে মাত্র ১১ থেকে ১২ পিএসআই তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শ্রমিক নেতারা।