বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন: পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রিশাল পৌরসভার নতুন পদক্ষেপ

আলোচনায় পৌরপ্রশাসক আরাফাত সিদ্দিকি
বর্জ্যকে পু কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান 'PowerChina'-এর সাথে আলোচনায় পৌরপ্রশাসক আরাফাত সিদ্দিকি

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গৃহীত হচ্ছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্জ্যকে পু কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘PowerChina’-এর সাথে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ৩ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসকের কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: পাওয়ারচায়নার পরিকল্পনা

সভায় মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল পৌর এলাকার বর্জ্যকে বিশেষ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। আন্তর্জাতিক সংস্থা পাওয়ারচায়নার কর্মকর্তারা জানান, তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সুবিধাজনক কোনো স্থানে একটি সর্বাধুনিক ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট’ (Waste Management Plant) স্থাপন করতে আগ্রহী। এই প্লান্টে দৈনন্দিন বর্জ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা পরবর্তীতে যুক্ত হবে দেশের জাতীয় গ্রিডে।

উপস্থিত ছিলেন যারা

পৌর প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক।

  • PowerChina-এর প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • ত্রিশাল পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

পৌর প্রশাসকের বক্তব্য ও প্রত্যাশা

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা নিয়ে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত সিদ্দিকী জানান:

“দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার একটি স্থায়ী ও বৈপ্লবিক সমাধান এনে দিতে পারে এই উদ্যোগ। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকায় বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া গতিশীল হবে এবং একই সাথে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বর্জ্য-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমাবে, অন্যদিকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। ফলে ট্র্যাশ বা ময়লা-আবর্জনা আর কেবল ঝামেলার কারণ থাকবে না, বরং তা অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে।