
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ‘ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট–২০২৬’-এর জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুলে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ১৪টি উপজেলা থেকে জুনিয়র (৮ম–১০ম শ্রেণি) ও সিনিয়র (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) গ্রুপের সেরা প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, একটি উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমুখী করে গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকার মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে ভবিষ্যতের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বোসন সায়েন্স ক্লাব ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস সাগর।
সভাপতির বক্তব্য সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, বিজ্ঞান চর্চার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বিনোদন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে এই অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানীর জীবনী ও আবিষ্কারের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের নিত্যনতুন উদ্ভাবনে নিজেদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন।
প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আসা সেরা প্রতিযোগীরা এই চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতা শেষে দুই গ্রুপের বিজয়ী সেরা দশজন প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে গাছের চারা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞানচর্চা ও পরিবেশ সুরক্ষার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে দেশব্যাপী এ ধরনের কার্যক্রম আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

