ত্রিশাল প্রতিদিন ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে উড়ন্ত সূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্ববাসীকে আবারও মন্ত্রমুগ্ধ করলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কানসাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের তিনটি গোলই এসেছে অধিনায়ক মেসির পা থেকে, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিক।
এই ঐতিহাসিক ট্রেবলের (তিন গোল) মাধ্যমে জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন মেসি। এখন ক্লোসার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। একই সঙ্গে রজার মিলার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ম্যাচে একাধিক গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের কীর্তিও গড়লেন ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা। এটি মেসির ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক।
মাঠে শুধুই মেসি-ম্যাজিক
ম্যাচের শুরু থেকেই মেসি ছিলেন তাঁর চেনা ছন্দে। মাঠের অন্যান্য খেলোয়াড়দের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মেসি আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন পুরোটা সময়। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত সহায়তায় একের পর এক আক্রমণ শানায় আর্জেন্টিনা।
- প্রথম গোল: রদ্রিগো ডি পলের বাড়িয়ে দেওয়া একটি নিখুঁত কাটিং থ্রু বল ধরে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে (ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে) পরাস্ত করে দলকে ১-০ তে এগিয়ে নেন মেসি।
- দ্বিতীয় গোল: প্রথমার্ধে আইসা মান্ডির সাথে একটি চ্যালেঞ্জের পর কিছুটা সৌভাগ্যবশত কার্ড থেকে বেঁচে যাওয়া মেসি দ্বিতীয় গোলটি পান দ্বিতীয় অর্ধে। ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি শট প্রতিহত হয়ে ফিরে আসলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
- তৃতীয় গোল: ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া একটি নিচু ও বাঁকানো জাদুকরী স্ট্রাইকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
গ্যালারিজুড়ে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা
হ্যাটট্রিক পূর্ণ হওয়ার পরপরই মাঠের সমস্ত দর্শক দাঁড়িয়ে এই মহানায়ককে অভ্যর্থনা (Standing Ovation) জানান। শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকরাই নন, গ্যালারিতে থাকা আলজেরিয়ান ফুটবলপ্রেমীরাও ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের এই অতিমানবীয় প্রদর্শনী সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখতে পেরে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
ঠিক ২০ বছর আগে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মেসির এবং সেই ম্যাচেও তিনি গোল করেছিলেন। ২০ বছর পর আজও সেই একই ধারায় বিশ্বমঞ্চ মাতাচ্ছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “লিওকে নিয়ে প্রশংসা করার মতো নতুন কোনো শব্দ আমার জানা নেই। আমি আর কী-ই বা বলতে পারি? ও স্রেফ অবিশ্বাস্য, অসাধারণ!”




