ত্রিশালে দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা: চলছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

বিমানবন্দর

বিশেষ প্রতিনিধি | আপডেট:

দেশের এভিয়েশন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি মেগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বর্ধিত চাপ সামলাতেই এমন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়ায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

কেন প্রয়োজন নতুন বিমানবন্দর?

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি কার্যকর হলে আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের বিমান চলাচলের সার্বিক চাহিদা সফলভাবে মেটানো সম্ভব হবে। তবে এর পরের সময়টিতে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান পরিবহন খাতের জন্য আরেকটি মেগাপ্রকল্পের আবশ্যকতা তৈরি হবে। সেই সুদূরপ্রসারী ভাবনা থেকেই ঢাকার সন্নিকটে ময়মনসিংহের ত্রিশালকে বেছে নিয়ে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন

শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত রূপান্তরে আরও বেশ কয়েকটি বড় পদক্ষেপের কথা জানান মন্ত্রী।

  • শিক্ষা ও প্রযুক্তি: বৃহত্তর ময়মনসিংহের আধুনিকায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

  • পর্যটন বিকাশ: নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বিরিশিরি এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

  • বিনোদন ও নাগরিক সুবিধা: শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের থিম পার্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপোশি অঞ্চলজুড়ে নানামুখী অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সাথে নিয়ে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত ময়মনসিংহ বিভাগ গড়ে তুলতে সরকার জোরালো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের বার্তা: ‘আজকের মেধা, আগামীর বাংলাদেশ’

‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মূলধারায় যুক্ত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে মেধা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।