ত্রিশালে ফসলি জমিতে চলছে অবৈধ সিসা কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ও বৈলর ইউনিয়নে প্রশাসনের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে দুটি অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কৃষিজমি দখল করে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে এই ক্ষতিকর সিসা উৎপাদন করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা।

অবৈধ কারখানার অবস্থান ও কার্যক্রম উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এলাকার একটি ইটভাটার পাশে এবং বৈলর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কৃষিজমি ভাড়া নিয়ে এই কারখানা দুটি পরিচালনা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে অর্ধশতাধিক শ্রমিক পুরাতন ব্যাটারি থেকে সিসা সংগ্রহের কাজ করছেন। দিনের বেলা ব্যাটারির উপরিভাগ ও ভেতরের ধাতব পদার্থ আলাদা করা হয় এবং রাতের বেলা গর্তে ফেলে তা পুড়িয়ে সিসার পিণ্ড তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালে বাতাসে এসিডের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

কৃষি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব কারখানাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে আশেপাশের ফসলি জমির ধান এবং বিভিন্ন ফলজ গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসিড ও ব্যাটারি পোড়ার উৎকট গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের দম ফেলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, বারবার প্রতিবাদ করেও প্রভাবশালী মালিকপক্ষের ক্ষমতার কারণে কোনো প্রতিকার মিলছে না। মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হরিরামপুর কারখানার ম্যানেজার আবুল কালাম অননুমোদিত কারখানার কথা স্বীকার করে জানান, অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং এলাকার লোকজনকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। তবে বৈলর কারখানার মালিক বিল্লাহ সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কৃষিজমিতে এ ধরনের ব্যবসার জন্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া যায় না।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শামসুজ্জামান মাসুম জানান, কারখানা দুটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ধরনের ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো তথ্য ছিল না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাম্মিম জাহান বলেন, কৃষি জমিতে সিসা ও এসিড পোড়ানোর ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি চিরতরে নষ্ট হয় এবং উৎপাদিত ফসল মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, কারখানা দুটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এদের কোনো বৈধ ছাড়পত্র নেই। খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ কারখানা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।