
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। বৈঠকের প্রধান দিকগুলো হলো:
সফর অনিশ্চিত: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু না হলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর এবং ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে ঢাকা।
কূটনৈতিক বার্তা: ঢাকা নির্দেশ করেছে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ ইস্যুর ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতা
১০ আগস্টের এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়:
ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অবস্থান: একই দিনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং ভারতীয় হাইকমিশনার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
দিল্লির প্রতিক্রিয়া: ভারতীয় হাইকমিশনার বৈঠক শেষে উল্লেখ করেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি “ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং দুই দেশের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পথরেখা
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি স্থিতিশীল ও বন্ধুভাবাপন্ন বাংলাদেশ প্রয়োজন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবৃতি কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশ কতটা নমনীয় অবস্থান নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মূল গতিপথ।

