
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের কামড়াকামড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাগডহর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হক ফারুক রেজা।
পরিদর্শনকালে ইউএনও প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তিনি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন। একই সাথে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি খাগডহর ইউনিয়নের মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখন দক্ষতা (রিডিং ও রাইটিং স্কিল) যাচাই করেন। পাশাপাশি মির্জাপুর ব্লকের কৃষক কার্ডের জন্য সংগৃহীত তথ্যের সঠিকতা যাচাই এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান পাকা রাস্তা মেরামতসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত কাজ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও খাগডহর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শুনেন এবং দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।
কাজের মান নিয়ে কোনো আপস নয়:
পরিদর্শন শেষে ইউএনও আরিফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংগঠিত রাখা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করতে পারে।”
এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও’র এই ঝটিকা পরিদর্শন ও নিবিড় তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খাগডহর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এ ধরণের প্রত্যক্ষ নজরদারি বজায় থাকলে উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

