ময়মনসিংহে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশে গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হার ভোট হার সিট’ ক্যাম্পেইনের জেলা পর্যায়ের মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা।

মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে তাঁদের অংশগ্রহণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কিন্তু এই সক্রিয়তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো অত্যন্ত সীমিত—মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই বৈষম্য ঘোচাতে এবং নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হার ভোট হার সিট’ ক্যাম্পেইনের জেলা পর্যায়ের মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি।

গত শনিবার (৮ আগস্ট) ময়মনসিংহ শহরের একটি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে Welfare Association for Development Alternative (WADA) এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা মত দেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেবল ভোটদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন অর্জিত হয় না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও নেতৃত্বের আসনে নারীর উপস্থিতি বাড়াতে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, তার গুরুত্বও তুলে ধরেন বক্তারা।

মূল প্রশিক্ষক হিসেবে অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহের সংবাদ পাঠক ও উপস্থাপক কৃষিবিদ নাদিরা জান্নাত রাখি এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রতিনিধি মোসাদ্দেক হোসেন। তাঁরা গণমাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কীভাবে প্রতিফলিত হয় তা তুলে ধরার পাশাপাশি সংবাদ ও কনটেন্ট তৈরিতে জেন্ডার-সংবেদনশীলতা বজায় রাখা, বৈষম্যমূলক ভাষা এড়ানো, অনলাইন নিরাপত্তা এবং অপতথ্য প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও নীতি-নির্ধারণী পদ ও সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্বে তাঁদের উপস্থিতি মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশে আটকে আছে। নারীর রাজনৈতিক পথচলায় থাকা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো চিহ্নিত করে সে বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলাই ‘হার ভোট হার সিট’ ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি।

এই মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেন ময়মনসিংহ বিভাগের মহিলা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ ছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, কনটেন্ট নির্মাতা, তরুণ সমাজকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, নাট্যকর্মী ও গ্রাফিতি শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে নারীর রাজনৈতিক অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সকালের অধিবেশনে নিবন্ধন ও প্রকল্প-পরিচিতির পর নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বেসলাইন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এরপর ক্যাম্পেইন কৌশল প্রণয়ন, জেন্ডার-সংবেদনশীল গল্প বলার কৌশল, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অপতথ্য শনাক্তকরণের ওপর দলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

দিনের শেষভাগে খোলামেলা আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা গণমাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা আরও বেশি দৃশ্যমান করা, ইতিবাচক ও তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন তৈরি এবং তরুণদের এই আন্দোলনে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনার মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হয়।