আজ রাতেই পর্দা উঠছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর — ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আজ রাতেই পর্দা উঠছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর

ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্কঃ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আজ রাতেই শুরু হচ্ছে। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এই রাতের অপেক্ষায় বুক বেঁধেছিলেন। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ রাত ১টায় কিক-অফের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর — ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।

প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে আয়োজক। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল একই মঞ্চে। প্রথমবারের মতো ১০৪টি ম্যাচ জুড়ে এক মাসব্যাপী অবিরাম ফুটবলযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি স্টেডিয়াম আজ থেকে পরিণত হচ্ছে বিশ্বের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আজতেকা স্টেডিয়াম শুধু একটি মাঠ নয় — এটি ফুটবলের পবিত্র তীর্থস্থান। ১৯৭০ সালে পেলে এই মাটিতেই তুলেছিলেন বিশ্বকাপ। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা এখানেই করেছিলেন ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। সেই আজতেকা আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয় পৃথক বিশ্বকাপে ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে — এটি নিজেই একটি অনন্য রেকর্ড।

উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা — এবং এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এক চমৎকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। জোহানেসবার্গে সেই ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে ড্রতে। ১৬ বছর পর আবার একই দুই দল, তবে এবার মেক্সিকোর ঘরের মাঠে — পুরনো হিসাব চুকানোর সুযোগ দুই পক্ষেরই।

মেক্সিকো নামছে শক্তিশালী মনোবল নিয়ে। সাম্প্রতিক আট ম্যাচের ছয়টিতেই প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রেখেছে দলটি। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। লক্ষাধিক দর্শকের গর্জন পিঠে নিয়ে জয় দিয়েই মিশন শুরু করতে মরিয়া স্বাগতিকরা।

কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজ ভাবলে ভুল হবে। কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর আফ্রিকার দলটি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ নয়টি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছে। দ্রুতগতি আর শারীরিক শক্তিই তাদের প্রধান অস্ত্র।

এবারের উদ্বোধনী উৎসব এক দেশে সীমাবদ্ধ নয়, তিন দেশেই আলাদা অনুষ্ঠান। মেক্সিকো সিটিতে মঞ্চ কাঁপাবেন শাকিরা ও বার্না বয় — পরিবেশন করবেন অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’। সঙ্গে থাকবেন জে বালভিন ও মেক্সিকান ব্যান্ড মানা।

টরন্টোতে কানাডার মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও আলিসিয়া কারা। আর লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে জমবে কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিংকের লিসা, ফিউচার ও অ্যানিত্তার জমকালো পারফরম্যান্স।

এবারের বিশ্বকাপে তারকার অভাব নেই। চোট কাটিয়ে ফিরে আসা লিওনেল মেসি প্রস্তুতি ম্যাচেই গোল করে জানান দিয়েছেন — তিনি এখনও প্রস্তুত। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে স্মরণীয় বিদায় নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। এমবাপ্পে, নেইমার, হালান্ড, হ্যারি কেইন এবং স্পেনের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল — সবাই আছেন এই মঞ্চে।

তিন দেশ, ৪৮ দল, ১০৪ ম্যাচ — আজ রাত থেকে এক মাস পুরো বিশ্ব মাতবে ফুটবলের ছন্দে। আজতেকার সবুজ ঘাসে যখন প্রথম বাঁশি বাজবে, তখন থেমে যাবে বিশ্বের শ্বাস — এবং শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহোৎসব।


পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ত্রিশাল প্রতিদিনে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন trishalprotidin2012@gmail.com ঠিকানায়।