ময়মনসিংহকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান, নিজ হাতে ঝাড়ু ধরলেন জেলা প্রশাসক

আরিফ রব্বানী,ময়মনসিং।। 

ময়মনসিংহকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অব্যাহত রয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। “যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’, যার আওতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় পর্যায়ক্রমে চালানো হচ্ছে এই কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযানের সর্বশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জেলা স্কাউট ভবন থেকে শুরু হয়ে অভিযানটি এইচএসটিটিআই, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এলাকা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে জেলা প্রশাসক নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে কার্যক্রমের সূচনা করেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে বাড়তি উৎসাহের সঞ্চার করে।

নাগরিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তথা বাংলাদেশ স্কাউটস ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, স্কাউট সদস্যরা সবসময় দেশের সেবায় প্রস্তুত থাকে। তিনি মন্তব্য করেন, পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ গড়ে তোলা কেবল প্রশাসন কিংবা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। মানুষ যেভাবে নিজের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখে, ঠিক একইভাবে দেশকেও নিজের ঘর মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পলিথিনকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে পলিথিনমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।

সাড়া দিলেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাও

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদের পাশাপাশি অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অংশগ্রহণকারীরা সড়ক ও আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং পরিত্যক্ত প্লাস্টিক অপসারণ করেন। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।

জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের নিয়মিত কার্যক্রম শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশগত মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।