আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
একসাথে ছয়টি দেশে ধরণী কেঁপে উঠেছিল – বাংলাদেশও তার মধ্যে। রাত এগারোটা ছত্রিশ মিনিটে, সোমবার নয়, রোববারই ঘটে ওঠে এই ঘটনা। অ্যান্ড্রয়েডের ভূমিকম্প খবরের তথ্য থেকে আসে এমনটা। মূলত দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কম্পন।
ভূঁই কাঁপার তীব্রতা ছিল ধরে ধরে ৫.৭ রিখটারে। উৎপত্তিস্থল পৌঁছেছিল মাত্র ৭ কিমি দূরে ভূটানের পুনাখা থেকে। এই ধাক্কা টের পেয়েছিল বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত এমনকি চীনও। মাঝরাতে এসে হঠাৎ যখন ঝাঁকুনি এল, ঘুম ভাঙল গোটা অঞ্চলের মানুষের। আতঙ্ক ছড়ায় সেদিকে, তবে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি তখনই।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, “রংপুর বিভাগে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আমরা বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ে রাত এগারোটা ছত্রিশ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প হয়। অ্যালার্ট থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়, আনুমানিক মাত্রা ছিল ৫.৫, আর ভূকেন্দ্র ছিল ১৩৮ মাইল বা ২২২ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, কয়েক সেকেন্ড ধরে চলা কম্পনে জানালা, দরজা, আসবাব খুব জোরে কাঁপছিল। ভয় পেয়ে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে যায় খোলা জায়গায়।
সিলেটে রাত এগারোটা চৌত্রিশে মাটি কাঁপে। জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, বন্দরবাজার – এসব এলাকার মানুষ বলছেন, তারা ঝাঁকুনি টের পায়। উপশহর থেকে শাহপরান পর্যন্ত ভবন থেকে লোকজন ছুটে রাস্তায় আসে। টিলাগড়-সুবিদবাজারে মাটি কেঁপে ওঠে রাতের আঁধারে। দুচারজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ভয় পেয়ে। আশপাশের উপজেলায় কম্পন লাগে হঠাৎ। অনেকে খোলা জায়গায় দাঁড়ায় নিঃশব্দে। রাত জাগরণের মাঝে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত।
ভূমিকম্প হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুকে অনেক আলোচনা উঠে আসে। অনেকে নিজেদের দেখা-শোনা লেখে ফেলে। এখন পর্যন্ত, সিলেট বা ঠাকুরগাঁওয়ে মৃত্যু ঘটেছে কিংবা ভবন ভেঙেছে – এমন খবর মেলেনি। আসল ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা জানতে কর্তৃপক্ষের দেওয়া রিপোর্ট আসার দিকে তাকিয়ে থাকা হচ্ছে।
ভূটানে উৎপত্তি, কাঁপল বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৫ দেশ



