
আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ।। প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ (সিবিএমসিবি)-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের সদরে অবস্থিত কলেজ ক্যাম্পাসে ‘সিবিএমসি ডে’ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য র্যালি, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্থাসূত্রে জানা গেছে, গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘সিবিএমসি ডে’ পালন শুরু হয়। এবারের আয়োজনে কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আলোচনা সভা ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডাঃ মামুনুর রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিবিএমসিবি-এর চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ডা. আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিবিএমসিবি-এর অধ্যক্ষ ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রফেসর ডাঃ মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী এবং উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ এমদাদুল হক শাকিল।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রফেসর মোফাখখারুল ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে কম খরচে বিরামহীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই ছিল এই কলেজের মূল লক্ষ্য। গত ৩২ বছরে আমরা আমাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে বহু দূর এগিয়েছি। দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন ব্যয়ে আমাদের হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা ও বেড ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গবেষণার নতুন দিগন্ত
মেডিকেল শিক্ষা ও সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সিবিএমসিবি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান বক্তারা।
অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড স্বীকৃতি: সিবিএমসিবি বর্তমানে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি অর্জিত হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং চিকিৎসকেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার বিশেষ সুযোগ পাবেন।
গবেষণায় অনুদান: শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ফিল্ড-লেভেল গবেষণা চালাচ্ছেন। এজন্য কলেজ ফান্ড থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক প্রজেক্টে অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
সকালে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

