ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্কঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১২৭তম) জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা। কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজেরও উদ্বোধন করবেন।
জাতীয় কবির প্রকৃত জন্মবার্ষিকী আগামী সোমবার (২৫শে মে) হলেও ঈদুল আজহার ছুটির কথা বিবেচনায় রেখে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান কর্মসূচি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে উপলক্ষ্যে ত্রিশালের সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ, দরিরামপুর, কাজীর শিমলা সহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক আয়োজনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা । রঙিন তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন ও বিশাল প্যান্ডেলে নতুন সাজে সেজেছে পুরো উপজেলা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার শুরু করে দিয়েছেন।
জাতীয় এই আয়োজনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ত্রিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ’ ও জাতীয় কবির স্মৃতিধন্য এ জনপদে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার দাবি। একইসঙ্গে ত্রিশালের বইলর ও চেলেরঘাট এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় সাংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করার পরে নজরুল ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।
জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি’ এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছে সংগঠনটি।
কমিটির আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান সবুজ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখন আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবি নজরুলের নামে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন। ত্রিশালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু এ অঞ্চল নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯১৪ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোল থেকে কিশোর নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন কাজী রফিজ উল্লাহ নামের এক দারোগা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ত্রিশালে অবস্থানকালে কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়। কৈশোরে তিনি দরিরামপুর স্কুলে অধ্যয়ন করেন, যা বর্তমানে সরকারি নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত।
২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐতিহ্যবাহী বটতলা এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ত্রিশাল নজরুলচর্চা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘ত্রিশালকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবির জীবনের দীর্ঘতম সময়ের একটি অংশ তিনি এখানেই কাটিয়েছেন। তাই নজরুলচর্চা ও স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, গ্রামীণ মেলা ও বইমেলা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।
সব মিলিয়ে বহু বছর পর জাতীয় পর্যায়ের নজরুল জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এখন নজরুলময় হয়ে উঠেছে পুরো ত্রিশাল।
মোঃ নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ও এম. জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশাল
